Bangla Love Story, বাংলা ভালোবাসার গল্প ২০২০
Bangla Love Story
ম্যাডামের মেয়ে যখন বউ
২য় পর্ব
লেখক:অনুর আব্বু
Bangla Love Story 2020,আমরা গিয়ে দেখি তন্বী একটি গাছের নিচে মাথা নিচু করে বসে আছে।তখন নাজমুল বললো মনে হয় মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছেরে যা স্বাধীন মাফ চেয়ে নে
আমিঃহ্যা তাই করি মেয়েটা সত্যি মনে হয় কষ্ট পেয়েছে।।আমি তন্বী কাছে চলে গেলাম
আমিঃএই শুনো
নিশ্চুপ কোনো কথা নেই তন্বী মাথা নিচের দিকে করে রেখেছে
আমিঃএই শুনো কি হয়েছে
তখন। তন্বী আমার দিকে তাকালো আরে একি মেয়েটা কাঁদছে কেনো??
আমি;এই তুমি কাঁদছো কেনো??
তন্বী: ইচ্ছা হয়েছে তাই কাঁদছি,, তোর কোনো সমস্যা আছি??
আমিঃএই তুমি আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলছো কেনো??
আমি কি কোনো দোষ করেছি??
তন্বী: নাহ তুই কেনো দোষ করতে যাবি??দোষ তো করেছি আমি,,আমি তো চরিত্রহীন একটা মেয়ে।
আমিঃতুমি এই ভাবে বলছো কেনো শুনি আমি তো তখন মজা করেছি তোমার সাথে।
তন্বী: ভালো করেছিস
আমি আর কিছু না ভেবে তন্বীর পাশে বসে পড়লাম।।
তন্বী: একি তুই আমার সাথে এইভাবে বসছিস কেনো??
আমিঃপ্লিজ তুমি আমাকে মাফ করে দাও।আমরা তো একটু মজা করতে চেয়েছিলাম,,কিন্তু বিশ্বাস করো আমি জানতাম না তুমি এতোটা কষ্ট পাবে।আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ,।
তন্বী: নাহ তোর কোনো মাফ নেই,,
আমিঃপ্লিজ আমাকে মাফ করে দাওনা,,আমি তো একটা পিচ্চু ছেলে বলো কেও যদি এই পিচ্চুর উপর রাগ করে থাকে পিচ্চুর কষ্ট হয়তো প্লিজ মাফ করো আমায়
তন্বী: আয়ছে আমার পিচ্চু,,আচ্ছা পিচ্চু তুই কি ফিডার খাস??
আমিঃহ্যা খায় তোহ
তন্বী এরপর আমার কথা শুনে হেসে দিলো
আর বললো এই ছেলে বলে কি সে নাকি পিচ্চু
আবার এই বয়সেও নাকি ফিডার খায় হাহাহহা
পিচ্চু হলেও খুব পাজি খুব দুষ্টু যেমন রাগাতে পারে তেমন রাত ভাঙাতেও পারে।
আমিঃএই বার এই পিচ্চুকে মাফ করে দেওয়া যায়না
তন্বী:হ্যা যায় তবে একটা শর্ত আছে।
আমিঃতোমার সব শর্তে আমি রাজি,,কি শর্ত বলো
তন্বী: আমার না কোনো বেষ্ট ফ্রেন্ড নাই
তুমি আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড হবা
আমিঃকিন্ত আমার তো মেয়েদের সাথে মিশতে কেমন জানি লাগে,,আমি পারবো না
তন্বী: তাহলে তোমাকে মাফও করবো না
আমিঃকিন্তু কেনো
তন্বী: আমার ফ্রেন্ড হবা না তাই মাফ করবো না কোনো দিন
তখন পেছন থেকে রাফি আর নাজমুল বললো শালা একটা মেয়ে ফ্রেন্ড বানালে তোর মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।বানিয়ে ফেল মেয়েটা যখন এতো করে বলছে।।
আমিঃতাহলে তোরা বলছিস বানাতে
হ্যা বানিয়ে ফেল মেয়েটা একটু রাগি আর দুষ্টু হলেও অনেক ভালো।বানিয়ে ফেল আমাদেরো একটা বন্ধু বারুক
আমি আর কি বলবো বন্ধুরা তো আর আমার খারাপ চাইবে না।তাই আমি তন্বীকে বললাম আমি তোমার শর্তে রাজি।তুমি যা চাইবে তাই হবে।
তন্বী: তাহলে মিলাও হাত।
তারপর আমি আর তন্বী ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম।
তারপর থেকে একসাথে আড্ডা দেওয়া একসাথে ঘুরে বেড়ানো অনেক কিছু।। একদিন আমি ম্যাম এর একটা ক্লাস মিস করি কিন্তু ক্লাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।আমি ম্যামকে বললাম ম্যাম আমি তো ক্লাস মিস করে ফেলেছি যদি আপনি একটু সাহায্য করতেন
ম্যামঃআচ্ছা তুমি বিকেলে আমার বাসায় চলে এসো আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিবো
আমি ম্যামকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাসায় গেলাম বাসা থেকে খেয়ে দেয়ে বিকালে একটি পরিপাটি হয়ে বের হলাম।শুনেছি ম্যামের বাসায় নাকি কোন এক মেয়ে এসেছে তাই একটু পরিপাটি হয়ে গেলাম।অচেনা কারো সামনে কি অগোছালো ভাবে যাওয়া যায়।তাই নিজেকে একটু পরিপাটি করে নিলাম বিকালে ম্যামের বাসায় গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বের চাপতে তন্বী এসে দরজা খুলে দিলো।
আমিঃকিরে তুইও কি আমার মত ক্লাস মিস করেছিস নাকি??
তন্বী কোনো কথা না বলে আমাকে বললো আসো তুমি ভেতরে আসো তারপর বলছি।
আমি কিছু না ভেবেই ব্যাপারটা ব্যাপার টা স্বাভাবিক ভাবে নিলাম।তন্বীতো মনে হয় বুঝতে এসেছে কিন্তু আমাকে বললো না কেনো,,হ্যা তন্বীকে তো বলা হয়নি আমি আসবো,,
বাসার ভেতর প্রবেশ করার পর তন্বী আমাকে বললো তুমি একটু বসো আমি খাবার নিয়ে আসছি
আমি;আরেরে এটা কি তোমার নিজের বাসা নাকি যে তুই খাবার আনতে যাবে?
তন্বী: হ্যা এটা তো আমারি বাসা!!
আমিঃদেখ সব সময় মজা করবি নাহ,,তার থেকে ভালো এখানে এসে বসে পরো ম্যাম এখনি চলে আসবে।
তন্বী: তুমি চুপচাপ বসে থাকো আমি খাবার নিয়ে আসছি।এই বলে তন্বী চলে গেলো।
এই মেয়ের মাথায় কোনো গণ্ডগোল আছে,,তা না হলে ম্যামের বাসায় এসে কেও এমন করে।আমি বসে আছি তখন ম্যাম আসলো আমি ম্যামকে সালাম দিলাম।তার কিছুক্ষণ পর তন্বী চলে এলো।
তন্বী সেগুলো ম্যাম আর আমার সামনে দিলো।নিজেও কিছু নিলো।কেমন মেয়েরে বাবা লজ্জা নেই ম্যামের সামনে এমন করছে।আমি কিছু বলছি না আমার নিজেরি লজ্জা লাগছে।ম্যাম আমাকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে বললো কি ব্যাপার স্বাধীন ওমন চুপ করে বসে আছো কেনো??
আমিঃনাহ ম্যাম কিছু না...
ম্যামঃবুঝতে পেরেছি,,তুমি অবাক হচ্ছো তন্বীকে আমার বাসায় দেখে আসলে তন্বী আমার নিজের মেয়ে এতো দিন ওর নানা বাসায় থেকে পড়ালেখা করেছে।কিন্তু আমি নিয়ে আসলাম একমাত্র মেয়ে এতো দূরে থাকে ভালো লাগে না।আর তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আমি কেনো কলজের সবাইকে বলেনি তন্বী আমার মেয়ে,,আসলে তন্বী নিজেই আমাকে বলেছিলো এই কথাটি গোপন করতে তাই আমি বলেনি।। আমি তো তন্বীর দিকে হা করে তাকিয়ে আছি।এতো দিন একসাথে থাকলাম আর এই ব্যাপার বুঝতেও পাড়লাম নাহ।আর কিভাবে বুঝবো মেয়েটা তো কলেজে ম্যামের সাথে তেমন কথা বলেনা।থাক এতো কিছু ভেবে কাজ নেই যা বুঝতে এসেছি তাই বুঝে বাসায় চলে যায়।পরে তন্বীর কাছে সব জিজ্ঞাস করে নিবো।ম্যাম আমাকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে সাথে তন্বী ছিলো ম্যাম তন্বীকে সাথে বসে বুঝতে বলেছে।তন্বী একদম আমার গা ঘেঁষে বসেছে।ম্যাম পড়া বুঝাচ্ছিলো আর তন্বী আমাকে খুঁচা দিচ্ছিলো
ইচ্ছা করছিলো একটা থাপ্পড় মারি।কিন্তু নাহ সেটা করা যাবে না।এখন আমি তার বাসাতেই বসে আছি।আর যদি তাকে এখন মারি তবে তার মা কি আমাকে ছেড়ে দিবে??কোনো রকম পড়া শেষ করে বাসায় আসলাম।।আম্মুকে বলে গিয়েছিলাম যে ফিরতে রাত হতে পারে তাই আম্মু আর কিছু বললো না।আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসলাম ম্যামের বাসায় খাবার জন্য আমাকে অনেক অনুরোধ করেছিলো।কিন্তু আমার লজ্জা লাগছিলো ম্যামের বাসায় খেতে তাই আমি বলেছিলাম আমার একটু তাড়া আছে অন্য একদিন খেয়ে নিবো এই কথা বলে সেখানন থেকে এসেছি খেয়ে দেয়ে রুমে এসে দিলাম এক মহা ঘুম এক ঘুমে রাত পার।পরদিন সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙলো,,
আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে দেয়ে কলেজে গেলাম যাবার পর দেখি তন্বী বসে আছে।আর হ্যা তন্বীর তেমন কোনো ফ্রেন্ড নেই।আমি তন্বীর কাছে গিয়ে বসলাল।
তন্বী: তাহলে আপনার এতোক্ষনে আসার সময় হলো মহারাজ??
আমিঃসেই সব পরে হবে,তার আগে বল তুমি আমাকে বললে না কেনো তুমি ম্যামের মেয়ে??
তন্বী: কেনো সেটা বললে কি তুমি আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতা না??
আমিঃসেটা বলতে চাচ্ছি না,,তুমি সবার কাছে থেকে তোমার আসল পরিচয় কেনো লুকিয়েছো??
তন্বী: আসলে পরিচয় দিয়ে দিলে সবাই অন্য চোখে দেখবে যেটা আমার একদম ভালো লাগে না।তাই আমি আম্মুকে বলেছি আমার আসল পরিচয় যেনো সবার সামনে না আনে...
আমিঃঅহহ আচ্ছা এখন তো আমি আর তোমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ রাখবো না।তুমি ম্যামের মেয়ে
তন্বী: কি বললি তুই কুত্তা তোর এতো বড় সাহস তুই আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ রাখবি না তাই না দারা আজকে দেখাচ্ছি তোকে মজা
আমি;এইই কি করছো ব্যাথা লাগছে তো
তন্বী: লাগলে লাগুক তাতে আমার কি??
তুই আরো বলবি আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ রাখবি না
আমিঃনা আর কোনো দিন বলবো না
তন্বী এরপর আমাকে ছেড়ে দিলো আমি তো বেচে গেলাম।।বুঝলাম নাহ আমার সাথে কেনো এমন করলো আমি ছেড়ে গেলে তন্বীর তো কিছু যায় আসে না।
তন্বী: অই স্বাধীন শুনো??
আমিঃহ্যা বলো
তন্বী: চলো না একটু ঘুরে আসি?
আমিঃকোথায় যাবে
তন্বী: নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসলে কেমন হয়??
আমিঃহ্যা অনেক ভালো হয়।
একইভাবে চলতে লাগলো আমাদের দিনগুলো।
খুব হাসি খুশি আড্ডা ঘুরে বেড়ানো আরো কত কি।তন্বী সব সময় আমার পাশে পাশে থাকতো।কেনো জানিনা তন্বী যখন আমার পাশে থাকতো আমার খুব ভালো লাগতো,আর যদি তন্বীর সাথে আমার কথা না হতো বা দেখা না হত সেই দিনটি খারাপ যেতো।।আমি সব সময় তন্বীর একটু কথা শুনবার জন্যা একটু দেখা পাবার জন্য পাগল থাকতাম।আমার মনে তন্বীর জন্য অন্য রকম একটি জায়গা সৃষ্টি হয়েছে।আমি তন্বীকে ভালোবেসে ফেলেছি।জানিনা তন্বী আমাকে ভালোবাসে কিনা।কিন্তু আমি তন্বীকে খুব ভালোবাসি।অন্যদিকে তন্বী আমার একটু বেশি কেয়ার নিতো।অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলা একদম সহ্য করতে পারতো না।যেদিন দেখতো আমি অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলছি সেদিন আমাকে ইচ্ছা মতো কিল ঘুষি দিতো।এই নিয়ে আমি কখনো কোনো কথা বলিনি।। একদিন একটা মেয়ের সাথে কথা বলছি মানে মেয়েটা একটা ক্লাস মিস করেছে আর সেই জন্য আমার কাছ থেকে নোট চাচ্ছে এই নিয়ে কথা বলছিলাম এরি মাঝে কোথায় হতে যেনো ডাইনি চল আসলো এসেই আমাকে কান ধরে ক্যাম্পাসের একটা ফায়কা জায়গায় নিয়ে গেলো তারপর
তন্বী:অই মেয়ের এতো কিসের কথা তোর হ্যা??
আমিঃনা এমনি বলছিলাম,,কেনো কি হয়েছে তাতে??
তন্বী: কি হয়েছে না হয়েছে তা জানিনা,,তবে তুই অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারবি না
আমিঃকেনো বললে কি হবে শুনি??
তন্বী: আমি বলছি তুই অন্য কারো সাথে কথা বলবি না,,মানে বলবি না,এতো প্যাকর প্যাকর করার কি আছে।
আমিঃতুমি কে হও আমার যে তুমি কথা বলতে না করবে আর আমি কথা বলবো না
তন্বী: কি বললি তুই আমি তোর কেও না?(চোখের কোনো কিছুটা পানি লক্ষ্য করলাম))
আমিঃহ্যা সত্যি তুমি আমার কেও হও না তো
তন্বী: তুই কি বুঝিস না??
আমিঃকি বুঝবো হা?
তন্বী;থাক তোকে আর বুঝতে হবে না(কান্না করেই দিয়ে))
আমিঃএই তুমি কান্না করছো কেন??
তন্বী:ইচ্ছা হয়েছে তাই কান্না করছি!! আমি আর কখনো তোর কোনো বিষয়ে কথা বলবো না
এই কথা শুনার পর আমার নিজেরই কেমন জানি লাগলো মনে হলো কারো শাসন হারিয়ে ফেলবো।
এরপর তন্বী আর কোনো কথা বলেনি।। চুপচাপ চলে গেছিলো আমি পেছন থেকে অনেক ডেকেছিলাম। কিন্তু তন্বী আমার কোনো কথা শুনেনি।চলেই গেছিলো তারপর থেকে দুইদিন তন্বীর সাথে কোনো যোগাযোগ নেই
এই দুইদিনে খুব মিস করেছি তন্বীকে
অনেক বার কল করেছি কিন্তু তন্বী রিছিভ করেনাই।ভেবেছিলাম একবার তাদের বাসায় যাবো কিন্তু কোনো মুখে যাবো আমি তাই আর যাওয়া হয়নি
এই দুদিনে বুঝতে পেরেছি তন্বী আমার কতটা জুড়ে আছে।খুব মিস করি তন্বীর কথা গুলো তার শাসন গুলো
কিছুই ভালো লাগছে না
কিভাবে যে তন্বীর সাথে একটু কথা বলবো দেখা করবো সেটাই ভেবে পাচ্ছি না
ভেবেছি এবার দেখা হলে তন্বীকে আমার ভালোবাসার কথা বলে দিবো
Bangla Romantic Love Story-Part 1

Post a Comment
[ Please don't comment any spam link.If you need backlink then click on contact us page 😊 ]